1. sumondomar2021@gmail.com : sumon islam : sumon islam
  2. info@www.newsibangla.com : news :
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

তপশিল ঘোষণা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা পুলিশ

শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া,পটুয়াখালী
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৩
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

শ্রী মিশুক চন্দ্র ভুঁইয়া,পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি :

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা ঘিরে সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশন থেকে তপশিল দেওয়ার পর কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করে মাঠ পর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আভাস পাওয়া গেছে, তপশিলের পর কোনো ধরনের জ্বালাও-পোড়াও, ককটেলবাজি বা এ ধরনের নাশকতা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে নাশকতাকারীদের ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। নির্বাচন পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে। আজ বুধবার তপশিল ঘোষণা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা দৈনিক কালবেলাকে বলেছেন, নানা দাবিতে বর্তমানে বিএনপিসহ সমমনা কয়েকটি বিরোধী দল অবরোধ কর্মসূচির নামে বিচ্ছিন্নভাবে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করছে। কোথাও কোথাও ককটেল নিক্ষেপের মতো ঘটনাও ঘটছে। এ কারণে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ বানচাল করতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে। সেজন্য পুলিশের আগাম সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রস্তুত।
ওই কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচনের সময়ে সাধারণত কয়েকটি ভাগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা ছক করা হয়। এর মধ্যে তপশিল ঘোষণার আগে ও তপশিল ঘোষণার পর নির্বাচন পর্যন্ত এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময় পর্যন্ত ভাগ করা হয়। সেই ধরনের নিরাপত্তা পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
মানুষের জানমাল রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব সময় সতর্ক থাকে। তপশিল ঘিরে যদি কেউ জানমাল ও সম্পদের ক্ষতি করতে চায় বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই নির্দেশনা ডিএমপির প্রতিটি ইউনিটে দেওয়া হয়েছে। নাশকতাকারীদের পুলিশ ছাড় দেয় না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, তপশিলের পর জ্বালাও-পোড়াও হতে পারে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নিরাপত্তা ছক করা হয়েছে। নাশকতার সঙ্গে যারা জড়িত বা যুক্ত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের ওপর নজরদারি চলছে। থানা পুলিশ ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন সমন্বয় করে তাদের আইনের আওতায় নিতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, তপশিল ঘোষণা থেকে শুরু করে আগামী দিনগুলোতে সম্ভাব্য সহিংসতা ও নাশকতা এড়াতে ডিএমপির সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ডিএমপি সদর দপ্তরে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান এ নির্দেশনা দেন। এতে তপশিল ঘোষণার পর সহিংসতার সম্ভাব্য বৃদ্ধি মোকাবিলায় বর্ধিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, টহল বৃদ্ধি এবং বর্ধিত সতর্কতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেওয়া ডিএমপির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, বৈঠক থেকে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে ২৮ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহনে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগুলোকে দ্রুত চিহ্নিত করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত আরেক কর্মকর্তা জানান, তপশিল ঘোষণার পর রাজধানীতে দিনের পাশাপাশি রাতেও টহল বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। রাতে পুলিশকে জোরে সাইরেন এবং বাঁশি বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা সতর্ক সম্ভাব্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, তপশিল ঘোষণার পর নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর ওপরে ড্রোন ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি করা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে নাইটভিশন সিসি ক্যামেরা দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। আন্তঃজেলা বাস ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার বাসে সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তপশিল ঘোষণা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি তৎপরতার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব বলেন, এ নিয়ে কোনো ধরনের হুমকি নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যে সভা হয়েছে, তাতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা রয়েছে। তারা সবকিছু দেখবে। তপশিল ঘোষণা কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। তারাই দেখবে। কমিশন থেকে এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং