1. sumondomar2021@gmail.com : sumon islam : sumon islam
  2. info@www.newsibangla.com : news :
রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
শেকড়ের সন্ধানে শীর্ষক সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সপ্তম মিলনমেলা ফুলবাড়ীতে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত কচুয়ায় খামারে অগ্নিসংযোগ এবং পুকুরে বিষ প্রয়োগ আগুনে পুড়ে মারা গেল মির্জাপুরের মেহেদী বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি’র নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর। নাঃগঞ্জে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বইমেলায় কবিদের উত্তরীয় দিয়ে বরণ। চিলাহাটিতে খাসি মোটাতাজকরণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল পদকে ভূষিত হলেন বরগুনার পুলিশ সুপার মোঃ আবদুস ছালাম নড়াইলের শান্তা সেনের মেডেকেল শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করতে দারিদ্র বাবা-মায়ের দুঃশিন্তা রংপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

নারী মুক্তির অগ্রদূত নুরনাবী মুহাম্মাদ (ﷺ)

শেখ খুরশিদ আলম (মানিক)
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ভূমন্ডল,নভোমণ্ডল সহ সমগ্র সৃষ্টির জন্য যিনি রহমত স্বরুপ আগমন করেছেন তিনি হলেন নুরনাবী মুহাম্মাদ (ﷺ)। মানব জাতিকে আধার হতে আলোর জগতে যিনি এনেছেন তিনি হলেন নুরনাবী মুহাম্মাদ (ﷺ)। বিশেষ করে পিছিয়ে পরা চির অবহেলিত নারী সমাজকে নিষ্ঠুরতম অবস্থা হতে যিনি তাদের সর্বচ্চো সম্মানের ও শ্রদ্ধার স্থানে উন্নিত করেছেন তিনি হলো নুরনাবী মুহাম্মাদ (ﷺ)। নিম্নে পবিত্র কুরআন ও রাহামাতুল্লিল কিছু মহামূল্যবান বাণী তুলে ধরছি। এগুলো পড়লেই খুব সহজেই যে কেউ বুঝতে পারবে নারীর প্রতি ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান কোন উচ্চাঙ্গের!ইসলাম নারীদের জন্য কি করেছে ? জানতে চান! তাহলে পুরো লেখনীটি পড়ুন একবার,হয়তো আপনার জিজ্ঞাসার পিপাসা মিটবে । আমার মনে হয়,আমাদের সমাজের অধিকাংশ পশ্চিমা ধারার নারীবাদীরা ১০০% সঠিক তথ্য জানে না ইসলামে নারীর কি কি অধিকার আছে? যদি তাঁরা সঠিক তথ্য জানতো তাহলে পর্দা-প্রথা এবং নারী পুরুষের মাঝে সম্পদ বন্টনের নীতির মতো দু একটা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ বিষয় নিয়ে কখনই হট্টগোল করতো না। ইনশা-আল্লাহ, আশা করছি আজকের লিখনীটির মাধ্যমে অনেকেরই “ইসলামে নারীর অধিকার” বিষয়েও ভুল বুঝাবুঝির অবসান হবে। পবিত্র কুরআনের নীতি অনুযায়ী সর্বশেষ নাবী মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম,নারী জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠায় যা যা করে গেছেন,তা আজও ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে শোভা পাচ্ছে….. (আলহামদুলিল্লাহ)

★স্বামী পুরুষ হিসেবে যে অধিকার তার স্ত্রী ওপর আছে, ঠিক একই অধিকার স্ত্রী হিসেবে নারীরও তার স্বামীর ওপর আছে। পবিত্র কুরআন তাদেরকে পরস্পরের পোশাক বলে ঘোষণা দিয়েছে। নিম্নের আয়াতটি লক্ষ্য করুন –
هُنَّ لِباسٌ لَكُم وَأَنتُم لِباسٌ لَهُنَّ

“তারা তোমাদের জন্য পোশাক-স্বরুপ এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক-স্বরুপ।” (২:১৮৭,আল বাকারা
আয়াতাংশ)

★ নেক আমলকারী নারী হোক বা পুরুষ দুজনেই আল্লাহর কাছে সমান প্রতিদান পাবে। এমর্মে পবিত্র কুরআনের আয়াতটি লক্ষ্য করুন-

مَن عَمِلَ صالِحًا مِن ذَكَرٍ أَو أُنثى وَهُوَ مُؤمِنٌ فَلَنُحيِيَنَّهُ حَياةً طَيِّبَةً وَلَنَجزِيَنَّهُم أَجرَهُم بِأَحسَنِ ما كانوا يَعمَلونَ

যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে,পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব। (১৬:৯৭,সূরা আন নাহল)

★ ইসলাম ধর্মেই সর্বপ্রথম সেই ঐশী ধর্ম, যা নারীকে তাঁর পিতা মাতাও আত্মীয় স্বজনে রেখে যাওয়া সম্পদে পুরুষের পাশাপাশি তাদেরকেও একটা নির্ধারিত অংশের উত্তরাধীকারী করেছে। নিম্নের আয়াতটি লক্ষ্য করুন –

لِلرِّجالِ نَصيبٌ مِمّا تَرَكَ الوالِدانِ وَالأَقرَبونَ وَلِلنِّساءِ نَصيبٌ مِمّا تَرَكَ الوالِدانِ وَالأَقرَبونَ مِمّا قَلَّ مِنهُ أَو كَثُرَ نَصيبًا مَفروضًا

“পুরুষদের জন্য মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গিয়েছে তা থেকে একটি অংশ রয়েছে। আর নারীদের জন্য রয়েছে মাতা পিতা ও নিকটাত্মীয়রা যা রেখে গিয়েছে তা থেকে একটি অংশ-তা থেকে কম হোক বা বেশি হোক-নির্ধারিত হারে।”(৪:৭,সূরা আন নিসা)

(এখানে একটা বিষয় স্মরণে রাখতে হবে-পুরুষ নারীর তুলনায় দ্বিগুণ সম্পদ পেলেও তাকে তা বিভিন্ন খাতে ভিবিন্ন সময় ব্যয় করার ক্ষেত্রে কিছু বাধ্য-বাধকতা ও দায়িত্বশীলতা আছে,কিন্তু নারীর জন্য এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। স্রষ্টার এই সম্পদ বন্টননীতিতে নারী অর্ধেক পেয়েও লাভবান )

★ইসলাম নারীকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে পাত্র পছন্দে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। এক্ষেত্রে তার অভিভাবক তাকে কোন বল প্রয়োগ করতে পারবে না। নিম্নে সহিহ হাদিসটি লক্ষ্য করুন-

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا، وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا، وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا»

হযরত ইবন আব্বাস (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, হযরত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: বিধবা তার নিজের (বিবাহের) ব্যাপারে তাঁর অভিভাবকের চাইতে অধিক হকদার। আর কুমারীর ব্যাপারে তার সম্মতি নেয়া হবে। আর তার সম্মতি হলো তার চুপ থাকা।
(সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩২৬০ মান: সহিহ)

★সন্তান কর্তৃক উত্তম ব্যবহার পাওয়ার ক্ষেত্রে মা হিসেবে পুরুষের চেয়ে নারীকে তিনগুণ বেশি সম্মান প্রদান করেছে আমাদের ইসলাম । নিম্নের সহিহ হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ شُبْرُمَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَحَقُّ بِحُسْنِ صَحَابَتِي قَالَ ‏”‏ أُمُّكَ ‏”‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏”‏ أُمُّكَ ‏”‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏”‏ أُمُّكَ ‏”‏‏.‏ قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ ‏”‏ ثُمَّ أَبُوكَ ‏”‏‏.‏ وَقَالَ ابْنُ شُبْرُمَةَ وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا أَبُو زُرْعَةَ مِثْلَهُ‏.‏

হযরত আবূ হুরায়রা (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, এক লোক রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহ্‌র রসূল! আমার নিকট কে উত্তম ব্যবহার পাওয়ার অধিক হকদার? তিনি বললেন-তোমার মা। লোকটি বললো- অতঃপর কে? নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন-তোমার মা। সে বললো-অতঃপর কে? তিনি বললেন-তোমার মা। সে বললোঃ অতঃপর কে? তিনি বললেনঃঅতঃপর তোমার বাবা।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৯৭১ মান: সহিহ)

★কন্যা সন্তানকে হত্যা নিষিদ্ধ করেছে ইসলাম। এমর্ম সহিহ হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ وَرَّادٍ، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَيْكُمْ عُقُوقَ الأُمَّهَاتِ، وَوَأْدَ الْبَنَاتِ، وَمَنَعَ وَهَاتِ، وَكَرِهَ لَكُمْ قِيلَ وَقَالَ، وَكَثْرَةَ السُّؤَالِ، وَإِضَاعَةَ الْمَالِ

হযরত মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, হযরত নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা’আলা তোমাদের উপর হারাম করেছেন মায়ের নাফরমানী, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া, কারো প্রাপ্য না দেয়া এবং অন্যায়ভাবে কিছু নেয়া আর অপছন্দ করেছেন অনর্থক বাক্য ব্যয়, অতিরিক্ত প্রশ্ন করা, আর মাল বিনষ্ট করাকে।

(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৪০৮ মান: সহিহ)

★ভাইয়ের ওপর বোনের দায়িত্ব দিয়ে নারীকে বোন হিসেবেও ইসলাম দিয়েছে সুমহান মর্যদা।নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُكْمِلٍ، عَنْ أَيُّوبَ بْنِ بَشِيرٍ الْمُعَاوِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا يَكُونُ لِأَحَدٍ ثَلَاثُ بَنَاتٍ، أَوْ ثَلَاثُ أَخَوَاتٍ، فَيُحْسِنُ إِلَيْهِنَّ، إِلَّا دَخَلَ الْجَنَّةَ»

আবু সাঈদ খুদরী (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত : রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ) বলেন :
যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান বা তিনটি বোন আছে এবং সে তাদের সাথে মমতাপূর্ণ ব্যবহার করে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।
(আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং ৭৯ মান: হাসান)

★সন্তান নারী হোক বা পুরুষ,সেটা ইসলামে মুখ্য নয়।মূখ্য হলো সে সুস্থ সবল জন্ম নিয়েছে কি না! নিম্নে এই হাদিস টি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دُكَيْنٍ، سَمِعَ كَثِيرَ بْنَ عُبَيْدٍ قَالَ: كَانَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا إِذَا وُلِدَ فِيهِمْ مَوْلُودٌ – يَعْنِي: فِي أَهْلِهَا – لَا تَسْأَلُ: غُلَامًا وَلَا جَارِيَةً، تَقُولُ: خُلِقَ سَوِيًّا؟ فَإِذَا قِيلَ: نَعَمْ، قَالَتِ: الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

আয়েশা (রদ্বিয়াল্লাহু আনহা)-র পরিবারে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে তিনি জিজ্ঞেস করতেন না যে, তা পুত্র না কন্যা সন্তান। তিনি জিজ্ঞেস করতেন, তা সুঠামদেহী পয়দা হয়েছে তো? যদি হাঁ বলা হতো, তবে তিনি বলতেন, জগতসমূহের প্রভু আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা।

(আদাবুল মুফরাদ,হাদিস নং ১২৬৮ মান: হাসান)

★নারী শিশু জন্ম হলে তার শুকরিয়া জ্ঞাপনে ইসলাম আকিকার খরচ কম করার জন্য পুরুষ শিশুর তুলনায় অর্ধেক খরচ নির্ধারণ করেছে। নিম্নে সহিহ হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سِبَاعِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أُمِّ كُرْزٍ، قَالَتْ سَمِعْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ عَنِ الْغُلاَمِ، شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنِ الْجَارِيَةِ، شَاةٌ ‏”‏ ‏.‏
হযরত উম্মু কুরয (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত :তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃপুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু’টি বকরী এবং কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি বকরী (আকীকা স্বরূপ যবেহ করা) যথেষ্ট।
(সুনানে তিরমিযী , হাদিস নং ১৫১৬ মান: সহিহ)

★ইসলামে নারীকে বিভিন্ন সম্পর্কে সম্মানিত করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো,খালাকে মায়ের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। নিম্নের সহিহ হাদিসটি লক্ষ্য করুন-

وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، أَنَّ النَّبِيَّ – صلى الله عليه وسلم – قَضَى فِي ابْنَةِ حَمْزَةَ لِخَالَتِهَا، وَقَالَ: «الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الْأُمِّ» أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ

হযরত বারা ইবনু আযিব (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নাবী (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হামযার কন্যা প্রসঙ্গে (দাবী উঠলে) নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালার পক্ষে ফয়সালা দিলেন এবং বললেন, ‘খালা মায়ের স্থান অধিকারিণী’।
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং ১৭৮১ মান: সহিহ)

★নারীকে শুধু তাঁর পিতার সম্পত্তিতে অংশ দেয়া হয়ে তা কিন্তু নয়। নারী মা হিসেবে তাঁর সন্তানের সম্পদেও অংশদার হবে। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَهْلُ بْنُ سَعْدٍ الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ عُوَيْمِرًا الأَنْصَارِيَّ، مِنْ بَنِي الْعَجْلاَنِ أَتَى عَاصِمَ بْنَ عَدِيٍّ ‏.‏ وَسَاقَ الْحَدِيثَ بِمِثْلِ حَدِيثِ مَالِكٍ وَأَدْرَجَ فِي الْحَدِيثِ قَوْلَهُ وَكَانَ فِرَاقُهُ إِيَّاهَا بَعْدُ سُنَّةً فِي الْمُتَلاَعِنَيْنِ ‏.‏ وَزَادَ فِيهِ قَالَ سَهْلٌ فَكَانَتْ حَامِلاً فَكَانَ ابْنُهَا يُدْعَى إِلَى أُمِّهِ ‏.‏ ثُمَّ جَرَتِ السُّنَّةُ أَنَّهُ يَرِثُهَا وَتَرِثُ مِنْهُ مَا فَرَضَ اللَّهُ لَهَا ‏.‏

হযরত সাহ্‌ল ইবনু সা’দ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত- আজলান গোত্রের ‘উওয়াইমির আনসারী ‘আসিম ইবনু ‘আদীর কাছে এলেন …পরবর্তী অংশ মালিক বর্ণিত হাদীসের মত বর্ণনা করেন। তিনি তার হাদীসে এ কথাও বলেছেন, “উওয়াইমির তার স্ত্রীকে আলাদা করে দেয়াতে পরবর্তীতে লি’আনকারীদ্বয়ের জন্য তা বিধানরূপে পরিগণিত হল।’’ তিনি তার বর্ণনায় আরও উল্লেখ করেছেন, “সাহল বলেছেন- সে মহিলাটি ছিল গর্ভবতী। সে গর্ভজাত সন্তানটিকে পরবর্তীতে তার মায়ের দিকে সম্বন্ধ করে ডাকা হয়।’’ এরপর এ বিধান প্রবর্তিত হলো যে, সে তার মায়ের ওয়ারিস পাবে এবং তার মা আল্লাহর নির্ধারিত অংশ হিসেবে তার (সন্তান) থেকে মিরাসের অধিকারী হবে।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৩৬৩৬ মান: সহিহ)

★নারী ‘মা’ হিসেবে মৃত্যুর পরেও তাঁর সন্তানের ওপর অধিকার রাখে,সন্তান যাতে তার পক্ষে দান সাদকা করে। সুবহানাল্লাহ। নিম্নে সহিহ হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا وَلَمْ تُوصِ وَإِنِّي أَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ لَتَصَدَّقَتْ فَلَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا وَلِيَ أَجْرٌ فَقَالَ ‏ “‏ نَعَمْ ‏”‏ ‏.‏

হযরত আয়িশাহ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:এক ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট এসে বললো, আমার মায়ের আকস্মিক মৃত্যু হয়েছে, তিনি ওসিয়াত করে যেতে পারেননি। তার সম্পর্কে আমার ধারনা এই যে, তিনি কথা বলতে পারলে অবশ্যই দান-খয়রাত করতেন। আমি যদি তার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করি, তবে তিনি ও আমি কি সওয়াবের অধিকারী হবো? তিনি বলেনঃ হাঁ।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ২৭১৭ মান: সহিহ)

★নারীর নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিত করতে,(এমন পুরুষ যার সাথে তার বিবাহ বৈধ নয়) মাহরামকে সাথে করে সফর
বাধ্যতা মুলক করেছে,চাই সেটা পবিত্র হজ্বের জন্যই হোক না কেন! নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، سَمِعْتُ قَزَعَةَ، مَوْلَى زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ ـ رضى الله عنه ـ يُحَدِّثُ بِأَرْبَعٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَعْجَبْنَنِي وَآنَقْنَنِي قَالَ ‏ “‏ لاَ تُسَافِرِ الْمَرْأَةُ يَوْمَيْنِ إِلاَّ مَعَهَا زَوْجُهَا أَوْ ذُو مَحْرَمٍ‏.‏ وَلاَ صَوْمَ فِي يَوْمَيْنِ الْفِطْرِ وَالأَضْحَى، وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ صَلاَتَيْنِ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ، وَلاَ تُشَدُّ الرِّحَالُ إِلاَّ إِلَى ثَلاَثَةِ مَسَاجِدَ مَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِ الأَقْصَى وَمَسْجِدِي ‏”‏‏.‏

যিয়াদের আযাদকৃত দাস কাযা‘আ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন,আমি আবূ সা‘ঈদ খুদ্‌রী (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু)-কে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে চারটি বিষয় বর্ণনা করতে শুনেছি, যা আমাকে আনন্দিত ও মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেছেনঃ নারীগণ স্বামী কিংবা মাহ্‌রাম ব্যতীত দু’দিনের দূরত্বের পথে সফর করবে না। ‘ঈদুল ফিত্‌র ও ‘ঈদুল আযহার দিনগুলোতে সিয়াম নেই। দু’ (ফরজ) সালাতের পর কোন (নফল ও সুন্নাত) সালাত নেই। ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং ‘আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত। এবং ১. মসজিদুল হারাম ২. মসজিদুল আক্‌সা এবং ৩. আমার মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে হাওদা বাঁধা যাবে না।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ১১৯৭ মান: সহিহ)

★ইসলাম নারী শিশুকে লালন পালন করাকে মা-বাবার জন্য জাহান্নাম থেকে বাঁচা উসিলা হিসেবে ঘোষণা করেছে। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدَّثَتْهُ قَالَتْ جَاءَتْنِي امْرَأَةٌ مَعَهَا ابْنَتَانِ تَسْأَلُنِي، فَلَمْ تَجِدْ عِنْدِي غَيْرَ تَمْرَةٍ وَاحِدَةٍ، فَأَعْطَيْتُهَا، فَقَسَمَتْهَا بَيْنَ ابْنَتَيْهَا، ثُمَّ قَامَتْ فَخَرَجَتْ، فَدَخَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ ‏ “‏ مَنْ يَلِي مِنْ هَذِهِ الْبَنَاتِ شَيْئًا فَأَحْسَنَ إِلَيْهِنَّ كُنَّ لَهُ سِتْرًا مِنَ النَّارِ ‏”‏‏.‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশা (রদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেনঃ একটি স্ত্রীলোক দু’টি মেয়ে সাথে নিয়ে আমার কাছে এসে কিছু চাইলো। আমার কাছে একটি খুরমা ব্যতীত আর কিছুই সে পেলো না। আমি তাকে ওটা দিলাম। স্ত্রীলোকটি তার দু’মেয়েকে খুরমাটি ভাগ করে দিল। তারপর সে উঠে বের হয়ে গেল। এ সময় নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এলেন। আমি তাঁকে ব্যাপারটি জানালাম। তখন তিনি বললেন:যাকে এ সব কন্যা সন্তান দিয়ে কোন পরীক্ষা করা হয়, অতঃপর সে তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে, এ কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে প্রতিবন্ধক হবে।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৯৯৫ মান: সহিহ)

حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُشَّانَةَ الْمَعَافِرِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ وَأَطْعَمَهُنَّ وَسَقَاهُنَّ وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ – كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ‏”‏ ‏.‏
হযরত উকবাহ বিন আমির (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন,আমি রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : কারো তিনটি কন্যা সন্তান থাকলে এবং সে তাদের ব্যাপারে ধৈর্য ধারণ করলে, যথাসাধ্য তাদের পানাহার করালে ও পোশাক-আশাক দিলে, তারা কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নাম থেকে অন্তরায় হবে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ৩৬৬৯ মান: সহিহ)

★’স্ত্রী’ হিসেবে নারীর বিশেষ মর্যাদা রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-

قَالَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً إِلاَّ أُجِرْتَ بِهَا حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ ‏”‏

সা‘আদ ইব্‌নু আবূ ওয়াক্কাস (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘তুমি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে যা-ই ব্যয় কর না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান নিশ্চিতরূপে প্রদান করা হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যা তুলে দাও, তারও।’
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫৬ মান: সহিহ)

★বিশেষ কারণে যুদ্ধরত অবস্থাতেও ইসলাম নারী হত্যাকে নিষিদ্ধ করেছে। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، وَأَبُو أُسَامَةَ قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ، اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ وُجِدَتِ امْرَأَةٌ مَقْتُولَةً فِي بَعْضِ تِلْكَ الْمَغَازِي فَنَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ قَتْلِ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ ‏.‏

ইবনু ‘উমার (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:কোন এক মহিলাকে কোন এক যুদ্ধ ক্ষেত্রে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। তখন রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারী ও শিশুদের হত্যা করতে নিষেধ করেছিলেন।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৪৪৪০ মান: সহিহ)

★সৎ নারীর প্রতি অপবাদ দিতেও নিষেধ করেছে আমাদের ইসলাম। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন-

حَدَّثَنِي هَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ، عَنْ ثَوْرِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَبِي الْغَيْثِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ اجْتَنِبُوا السَّبْعَ الْمُوبِقَاتِ ‏”‏ ‏.‏ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا هُنَّ قَالَ ‏”‏ الشِّرْكُ بِاللَّهِ وَالسِّحْرُ وَقَتْلُ النَّفْسِ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ وَأَكْلُ مَالِ الْيَتِيمِ وَأَكْلُ الرِّبَا وَالتَّوَلِّي يَوْمَ الزَّحْفِ وَقَذْفُ الْمُحْصَنَاتِ الْغَافِلاَتِ الْمُؤْمِنَاتِ ‏”‏ ‏.‏

হযরত আবূ হুরায়রাহ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: হযরত রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ধ্বংসকারী সাতটি কাজ থেকে তোমরা বেঁচে থেকো। প্রশ্ন করা হলো-হে আল্লাহর রসূল সে গুলো কি?
তিনি বললেনঃ (১) আল্লাহর সাথে শারিক করা;
(২) যাদু করা; (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা; (৪) ইয়াতিমের মাল অন্যায়ভাবে আত্নসাৎ করা; (৫) সুদ খাওয়া; (৬) যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সাধ্বী, সরলমনা ও ইমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৬৩ মান: সহিহ)

★ব্যভিচারের অপরাধ করলে শাস্তি প্রদানে নারী বা পুরুষের মধ্যে কোন বৈষম্য করে নি ইসলাম। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ خُذُوا عَنِّي خُذُوا عَنِّي قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لَهُنَّ سَبِيلاً الثَّيِّبُ بِالثَّيِّبِ جَلْدُ مِائَةٍ وَرَمْىٌ بِالْحِجَارَةِ وَالْبِكْرُ بِالْبِكْرِ جَلْدُ مِائَةٍ وَنَفْىُ سَنَةٍ ‏”‏ ‏.‏

হযরত উবাদা্হ ইবনুস ‌সামিত (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত:তিনি বলেন, হযরত রাসুলাল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: তোমরা আমার থেকে গ্রহন করো। আল্লাহ তাদের জন্য বিধান দিয়েছেন: বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিত নারী অপরাধী প্রমাণিত হলে তাদের শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা। আর অবিবাহিত পুরুষ ও অবিবাহিত নারীর শাস্তি হলো একশো বেত্রাঘাত ও এক বছরের নির্বাসন।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৪১৫ মান: সহিহ)

★নারীকে পণ্যের মতো ব্যবহার করা ও ক্রয়-বিক্রয় করাকে ইসলাম সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করেছে। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ مُضَرَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَهُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لاَ تَبِيعُوا الْقَيْنَاتِ وَلاَ تَشْتَرُوهُنَّ وَلاَ تُعَلِّمُوهُنَّ وَلاَ خَيْرَ فِي تِجَارَةٍ فِيهِنَّ وَثَمَنُهُنَّ حَرَامٌ ‏”‏ ‏.‏ فِي مِثْلِ ذَلِكَ أُنْزِلَتْ عَلَيْهِ هَذِهِ الآيَةُ ‏:‏ ‏(‏ومِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ ‏)‏ إِلَى آخِرِ الآيَةِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ إِنَّمَا يُرْوَى مِنْ حَدِيثِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ‏.‏ وَالْقَاسِمُ ثِقَةٌ وَعَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ الْقَاسِمُ ثِقَةٌ وَعَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ يُضَعَّفُ ‏.‏
হযরত আবূ উমামাহ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: হযরত রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা গায়িকা নারীদের ক্রয়-বিক্রয় করো না, তাদেরকে গান-বাজনা শিক্ষা দিও না, তাদের (ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা) ব্যবসায়ের মধ্যে কোন মঙ্গল নেই এবং এদের মূল্যও হারাম। এ প্রসঙ্গেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয় -“এমনও কিছু লোক আছে, যারা বাতিল অশ্লীল কাহিনীসমূহ ক্রয় করে আনে, যেন লোকদেরকে অজ্ঞতাবশত আল্লাহ তা’আলার পথ হতে আলাদা করতে পারে এবং এ পথকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতে পারে। এ ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে অপমানকর আযাব”- (সূরা লুকমান ৬)।
(জামে’ আত-তিরমিজি, হাদিস নং ৩১৯৫ মান: হাসান)

★নারীরা যাতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে ব্যবস্থাও নিয়ে ছিলেন। নিম্নের হাদিস দুটি লক্ষ্য করুন –

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، ذَكْوَانَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ ذَهَبَ الرِّجَالُ بِحَدِيثِكَ فَاجْعَلْ لَنَا مِنْ نَفْسِكَ يَوْمًا نَأْتِيكَ فِيهِ تُعَلِّمُنَا مِمَّا عَلَّمَكَ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ ‏”‏ اجْتَمِعْنَ يَوْمَ كَذَا وَكَذَا ‏”‏ ‏.‏ فَاجْتَمَعْنَ فَأَتَاهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَلَّمَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَهُ اللَّهُ ثُمَّ قَالَ ‏”‏ مَا مِنْكُنَّ مِنِ امْرَأَةٍ تُقَدِّمُ بَيْنَ يَدَيْهَا مِنْ وَلَدِهَا ثَلاَثَةً إِلاَّ كَانُوا لَهَا حِجَابًا مِنَ النَّارِ ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَتِ امْرَأَةٌ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ وَاثْنَيْنِ ‏”‏ ‏.‏

হযরত আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন,এক নারী রসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুরুষ লোকজন আপনার হাদীস শুনতে পায়। কাজেই আপনি আপনার নিকট হতে আমাদের (নারী সমাজের) জন্যে একটি দিন ঠিক করে দিন (যেদিন আমরা আপনার নিকট একত্র হই)। আর আল্লাহ আপনাকে যা শিক্ষা দান করেন তা হতে আমাদেরকে শিক্ষা দিন। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, বেশ ভালো তো, অমুক অমুক দিন তোমরা সমবেত হবে। তারা (নির্দিষ্ট দিনে) একত্র হলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সমীপে আসলেন এবং আল্লাহ তাকে যা শিখিয়েছেন তা হতে তাদেরকে শিখালেন। অতঃপর তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে যে কোন মহিলা তার জীবিত থাকতে সন্তান থেকে তিনটি সন্তান পাঠালেন (অর্থাৎ- তিনটি সন্তান মারা গেল)। সে সন্তানরা বিচার দিবসে তার জন্যে আড়াল হবে। তখন এক স্ত্রী বলল, দু’জন, দু’জন, দু’জন হলে (কি বিধান)। রাসূলুল্লাহ (সল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হ্যা, দু’জন, দু’জন, দু’জনেও এ বিধান।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৫৯৩ মান: সহিহ)

مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ قَالَ أَتَيْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَفِيقًا فَلَمَّا ظَنَّ أَنَّا قَدْ اشْتَهَيْنَا أَهْلَنَا أَوْ قَدْ اشْتَقْنَا سَأَلَنَا عَمَّنْ تَرَكْنَا بَعْدَنَا فَأَخْبَرْنَاهُ قَالَ ارْجِعُوا إِلَى أَهْلِيكُمْ فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ وَذَكَرَ أَشْيَاءَ أَحْفَظُهَا أَوْ لاَ أَحْفَظُهَا وَصَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي فَإِذَا حَضَرَتْ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ.

মালিক ইব্‌নু হুওয়ায়রিস (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলাম। আমরা সবাই এক বয়সী যুবক ছিলাম। আমরা বিশ রাত তাঁর কাছে অবস্থান করলাম। রাসূলল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন কোমল হৃদয়ের। তিনি যখন অনুমান করলেন যে আমরা আমাদের স্ত্রী-পরিবারের প্রতি ঝুঁকে পরেছি, কিংবা আসক্ত হয়ে পড়েছি তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমরা বাড়িতে কাদেরকে রেখে এসেছি। আমরা তাঁকে জানালাম। তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিবারের (স্ত্রীদের) কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝে অবস্থান কর, আর তাদেরকে (দ্বীন) শিক্ষা দাও। আর তাদের হুকুম কর। তিনি [মালিক (রাঃ)] কিছু বিষয়ে উল্লেখ করেছিলেন, যা আমি মনে রেখেছি বা মনে রাখতে পারিনি। (নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন) তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখছ সেভাবে সালাত আদায় কর। যখন সালাতের সময় হাজির হয়, তখন তোমাদের কোন একজন যেন তোমাদের জন্য আযান দেয়,আর তোমাদের মধ্যে যে বড় সে যেন তোমাদের ইমামত করে।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭২৪৬ মান: সহিহ)

★হতে পারে কোন নারী অসুন্দর বা দরিদ্র,সেই দিকে লক্ষ্য রেখে নারীদের বিয়ে করার ক্ষেত্রে তাদের রুপ ও সম্পদের দিকে না তাকিয়ে দীনদারীকে প্রাধান্য দিতে বলেছে ইসলাম। নিম্নের হাদিসটি লক্ষ্য করুন –

مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيٰى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لأرْبَعٍ لِمَالِهَا وَلِحَسَبِهَا وَجَمَالِهَا وَلِدِينِهَا فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ.
হযরত আবূ হুরায়রা (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু)থেকে বর্ণিত : নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদেরকে বিয়ে করা হয়ঃ তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার সৌন্দর্য ও তার দীনদারী। সুতরাং তুমি দীনদারীকেই প্রাধান্য দেবে নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫০৯০ মান: সহিহ)

“মহিলারা পর্দার আড়ালে থাকার যোগ্য। সে যখন বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তার উপর প্রবল হয়ে যায়।”
(আত-তারগীব হা/৩৩৯,৩৪১ হাদিসের মান : সহিহ )

লেখক: শেখ খুরশিদ আলম (মানিক) নূরী ।
{কামিল (আত-তাফসির), মাস্টার্স (আল-হাদিস),
এম.এ (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) এবং এম.এ (ইসলামিক স্টাডিজ),অধ্যয়নরত (কামিল ফিকাহ)}।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং