1. info@www.newsibangla.com : news :
স্রষ্টার সর্ব-প্রথম সৃষ্টি - News i Bangla
বুধবার, ২৬ জুন ২০২৪, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আতাউর রহমান মিল্টন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত ডোমার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত সরকার ফারহানা আখতার সুমি চট্টগ্রামে র‌্যাবের পাতা ফাঁদে আঁটকে গেল ৪ চাঁদাবাজ নাজাত যেন মেলে নালিতাবাড়ীতে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের গণসংযোগ এক বছরের মাথায় চিলাহাটি এক্সপ্রেস কোচ লক্কড়ঝক্কড় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক/কর্মচারী যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত গাজীপুরের শ্রীপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চিলাহাটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা শেকড়ের সন্ধানে শীর্ষক সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সপ্তম মিলনমেলা

স্রষ্টার সর্ব-প্রথম সৃষ্টি

শেখ খুরশিদ আলম (মানিক)
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৬৭ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র কুরআন ও হাদিসে রাসুল বিশ্লেষণ করলে বেশ কয়েকটি মতামত পাওয়া যায় প্রথম সৃষ্টির বিষয়ে,তবে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী স্কলারসহ অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য স্কলারগণ প্রথম সৃষ্টির বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ‘নূরে মুহাম্মাদী’-কেই সর্ব-প্রথম সৃষ্টি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। নিম্নে এই বিষয় সংক্ষিপ্ত একটা আলোচনা তুলে ধরলাম-

০১.আহলে হাদিস মান্যবর শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী (মৃত্যু.১৯৯৯.) তার ‘‘সিলসিলাতুল আহাদিসুদ দ্বঈফাহ’’ গ্রন্থে একটি হাদিস এনেছেন। আর তা হলো-

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” لَمَّا خَلَقَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ آدَمَ خَيَّرَ لِآدَمَ بَنِيهِ، فَجَعَلَ يَرَى فَضَائِلَ بَعْضِهِمْ عَلَى بَعْضٍ، قَالَ: فَرَآنِي نُورًا سَاطِعًا فِي أَسْفَلِهِمْ، فَقَالَ: يَا رَبِّ مَنْ هَذَا؟ قَالَ: هَذَا ابْنُكَ أَحْمَدُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الْأَوَّلُ وَالْآخَرُ وَهُوَ أَوَّلُ شَافِعٍ ”

অনুবাদ:হযরত আবু হুরায়রা (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেন, যখন আল্লাহ তা‘য়ালা হযরত আদম (عليه السلام) কে সৃষ্টি করলেন, তখন তাকে তার সন্তান-সন্ততি দেখালেন। হযরত আদম (عليه السلام) তাদের পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব নিরীক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে তিনি একটি চমকদার নূর দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসা করলেন : হে পরওয়ারদিগার! এ কার নূর? আল্লাহ তা‘য়ালা বললেন, এ তোমার আওলাদ হবে, তার নাম আসমানে আহমদ। তিনি (সৃষ্টিতে) প্রথম এবং তিনি প্রেরণে শেষ। তিনি সর্বপ্রথম শাফায়াতকারী।

(ইমাম বায়হাকী,দালায়েলুল নবুয়ত, ৫/৪৮৩ পৃ.দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, ইমাম সুয়ূতী : খাসায়েসুল কোবরা : ১/৭০ পৃ. হা/১৭৩, আল্লামা ইমাম ইবনে আসাকির : তারিখে দামেস্ক : ৭/৩৯৪-৩৯৫ পৃ. দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন, ইমাম জুরকানী, শারহুল মাওয়াহেব, ১/৪৩ পৃ., দারুল ফিকর ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, মুত্তাকী হিন্দী : কানযুল উম্মাল : ১১/৪৩৭ পৃ. হা/৩২০৫৬, আবূ সা‘দ খরকুশী নিশাপুরী, শরফুল মুস্তফা, ৪/২৮৫ পৃ., ইমাম কাস্তাল্লানী, মাওয়াহেবে লাদুন্নীয়া, ১/৪৯ পৃ., ইমাম দিয়ার বকরী, তারীখুল খামীস, ১/৪৫ পৃ., সার্রাজ, হাদিসাহ, হাদিস নং.২৬২৮, ইবনে হাজার আসকালানী, আল-মুখালি­সিয়্যাত, ৩/২০৭ পৃ.হা/২৩৪০, সালিম জার্রার, আল-ইমা ইলা যাওয়াইদ, ৬/৪৭৮ পৃ. হা/৬০৮৩, ইবনে সালেহ শামী, সবলুল হুদা ওয়ার রাশাদ, ১/৭১ পৃ., ইফরাকী, মুখতাসারে তারীখে দামেস্ক, ২/১১১ পৃ.)

বি:দ্র: নাসিরুদ্দীন আলবানী (মৃত্যু ১৯৯৯খৃ.) এ হাদিসের সনদ প্রসঙ্গে লিখেন-

قلت: وهذا إسناد حسن؛ رجاله كلهم ثقات رجال البخاري؛

অনুবাদ: আমি (আলবানী) বলছি,এই হাদিসের সনদ ‘হাসান’,ইহার সকল বর্ণনাকারীগণ ইমাম বুখারী (رحمة الله) এর বর্ণনাকারী ন্যায়।

০২.ত্রয়ােদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ আল্লামা শাহ আব্দুল আযিয মুহাদ্দিস দেহলভী (رحمة الله) [ওফাত, ১২৩৯হি.) তিনি স্বীয় “তাফসীরে আযিযী”তে বলেন,

در عالم ارواح اول كسے كہ پيدا شد ايشاں بودند-

অনুবাদ: রূহ জগতে (আলমে আরওয়াহে) সর্বপ্রথম যাকে সৃষ্টি করা হয়, তিনি হচ্ছেন রাসূল ।

{শাহ আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভী : তাফসীরে আযিয়ী (শেষ জিলদ) : ৩০ পারা : প-২১৯}

০৩.মুফতি শফি তার লিখিত প্রসিদ্ধ কোরআনের তাফসির তাফসিরে মা’রিফুল কুরআন সূরা আন’আমের ১৬৩ নং আয়াতের ব্যখ্যা করতে গিয়ে লিখেন –

اور پہلا مسلمان ہو نے سے اس طرف بهى اشاره ہو سكتا ہے كہ مخلوقات ميں سب سے پہلے رسول كريم صلى الله عليہ وسلم كا نور مبارك پيدا كياگيا ہے اس كے بعد تمام آسمان وزمين اور مخلوقات وجود ميں آے ہيں جيسا كہ ايک حديث میں ارشاد ہے اول ما خلق الله نورى -(روح المعانى)

অনুবাদ: প্রথম মুসলমান বলতে এদিকেও ইঙ্গিত করা হতে পারে যে, সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে সর্বপ্রথম রাসূলে করীম (ﷺ) এর নুর মােবারক সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর সকল আসমান যমিন এবং সকল সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করে। যেমন একটি হাদীসে ইরশাদ হয়েছে, সর্বপ্রথম আল্লাহ তায়ালা আমার নূর সৃষ্টি করেছেন।(রুহুল মা‘য়ানী)।

(মুফতী শফি : তাফসীরে মা’রিফুল কুরআন : ৩৫১০ পৃ. ইদারাতুন মা’আরিফ, করাচী, পাকিস্তান।)

০৪.মাও: আশরাফ আলী থানবী,সাহাবী হযরত জাবের (رضي الله عنه)এর হাদিস বর্ণনায় তার স্বীয় গ্রন্থে লিখেন-

پہلى روايت: حضرت جابر بن عبد اللہ انصارى رضى الله تعالى عنہ فرما تے هيے: ميں نے رسول الله صلى الله عليه وسلم عرض كيا: ميرے ماں باپ أپ پر قربان ہوں مجہے بتایۓ كہ اللہ تعالى نے تمام چيزں و سے پہلے کس چیز كو پيدا كيا- أپ صلى الله عليه وسلم نے ارشاد فرمایا: جابر ! الله تعالى نے تمام چيزوں سے پہلے تمہارے نبى كے نور كو اپنے نور كے فيض سے پيدا كيا-

অনুবাদ: প্রথম বর্ণনাঃ হযরত যাবের (رضي الله عنه) হতে সংকলন করেছেন যে, তিনি আমি আরজ করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার মাতা পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গ। আমাকে বলুন, আল্লাহ তা‘য়ালা সবকিছুর পূর্বে কি সৃষ্টি করেছেন? হুযুর (ﷺ) ফরমালেন, হে যাবের! নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘য়ালা সবকিছুর পূর্বে তাঁর নূরের ফয়য হতে তোমার নবীর নূরকে সৃষ্টি করেছেন….আরও দীর্ঘ বর্ণনা।

(আশরাফ আলী থানবী, নশরুত্তীব ফি যিকরেন্নাবিয়্যেল হাবিব, ২৫ পৃষ্ঠা)

এছাড়াও পবিত্র কুরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিসের আলোকে এটা সুস্পষ্ট যে মানবীয় আকৃতিতে প্রকাশ পাওয়ার পূর্বেই আমাদের নাবীর নূরানী অস্তিত্ব বিদ্যামান ছিল। তাই তো তার সেই ‘নূর’ অস্তিত্বের কাছে হতে রুহানী জগতেই মহান আল্লাহ আখিরী যামানার জন্য নুবয়তের মহান দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন। যেমন-পবিত্র কুরআনে রয়েছে-

وَإِذ أَخَذنا مِنَ النَّبِيّينَ ميثاقَهُم وَمِنكَ وَمِن نوحٍ وَإِبراهيمَ وَموسى وَعيسَى ابنِ مَريَمَ وَأَخَذنا مِنهُم ميثاقًا غَليظًا

আর স্মরণ করুন,যখন (রুহানী জগতে) আমি অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম নবীদের থেকে এবং (হে হাবীব!) আপনার নিকট থেকে এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও মারইয়াম পুত্র ঈসার নিকট থেকে। আর আমি তাদের কাছ থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম।

(সূরা আল আহ্‌যাব,সূরা নং ৩৩,আয়াত ০৭)

وَإِذ أَخَذَ اللَّهُ ميثاقَ النَّبِيّينَ لَما آتَيتُكُم مِن كِتابٍ وَحِكمَةٍ ثُمَّ جاءَكُم رَسولٌ مُصَدِّقٌ لِما مَعَكُم لَتُؤمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنصُرُنَّهُ قالَ أَأَقرَرتُم وَأَخَذتُم عَلى ذلِكُم إِصري قالوا أَقرَرنا قالَ فَاشهَدوا وَأَنا مَعَكُم مِنَ الشّاهِدينَ

অনুবাদ: আর স্মরণ করুন, যখন (রুহানী জগতে) আল্লাহ নবীদের অঙ্গীকার নিয়েছেন- আমি তোমাদেরকে যে কিতাব ও হিকমাত দিয়েছি, অতঃপর তোমাদের সাথে যা আছে তা সত্যায়নকারীরূপে একজন রাসূল তোমাদের কাছে আসবে- তখন অবশ্যই তোমরা তার প্রতি ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। তিনি বললেন, ‘তোমরা কি স্বীকার করেছ এবং এর উপর আমার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছ’? তারা বলল, ‘আমরা স্বীকার করলাম’। আল্লাহ বললেন, ‘তবে তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী রইলাম’।

(সূরা আলে ইমরান,সূরা নং ০৩,আয়াত ৮১)

এবং সহিহ হাদিসে রয়েছে –

حَدَّثَنَا أَبُو هَمَّامٍ الْوَلِيدُ بْنُ شُجَاعِ بْنِ الْوَلِيدِ الْبَغْدَادِيُّ،حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى وَجَبَتْ لَكَ النُّبُوَّةُ قَالَ “‏ وَآدَمُ بَيْنَ الرُّوحِ وَالْجَسَدِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ مَيْسَرَةَ الْفَجْرِ ‏.‏

অনুবাদ:হযরত আবূ হুরায়রাহ্ (রদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,লোকেরা প্রশ্ন করল,ইয়া রাসুলাল্লাহ (ﷺ) ! আপনার নবুয়াত কখন অবধারিত হয়েছে ? তিনি বললেনঃ যখন হযরত আদম (আলাইহিস সালাম) তাঁর শরীর ও রুহের মধ্যে ছিল।

(সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৬০৯, মান সহীহ )

উপরোক্ত আলোচনা থেকে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট হলো যে, সূচনা লগ্নে প্রথম পর্যায়ে পানি, আরশ, আকল, কলম ও নূরে মুহাম্মাদীর সৃষ্টির মধ্যে মহান আল্লাহ সর্ব-প্রথম যা সৃষ্টি করেন তা হলো-‘নূরে মুহাম্মাদী’।

তাই তো ইমামে আহলে সুন্নাত,আ’লা হাযরাত ইমাম আহমাদ রেযা খান বেরলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কাব্যগ্রন্থ হাদায়িকে বাখশিশ বলেন-

“تیری نسل پاک میں ہے بچہ بچہ نور کا
تو ہے عینِ نور تیرا سب گھرانا نور کا”

লেখক: শেখ খুরশিদ আলম (মানিক) নূরী ।
{কামিল (আত-তাফসির),মাস্টার্স (আল-হাদিস)
,এম.এ (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) এবং এম.এ (ইসলামিক স্টাডিজ),অধ্যয়নরত (কামিল ফিকাহ)}।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং