1. sumondomar2021@gmail.com : sumon islam : sumon islam
  2. info@www.newsibangla.com : news :
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ডোমার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত সরকার ফারহানা আখতার সুমি চট্টগ্রামে র‌্যাবের পাতা ফাঁদে আঁটকে গেল ৪ চাঁদাবাজ নাজাত যেন মেলে নালিতাবাড়ীতে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীদের গণসংযোগ এক বছরের মাথায় চিলাহাটি এক্সপ্রেস কোচ লক্কড়ঝক্কড় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক/কর্মচারী যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত গাজীপুরের শ্রীপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত চিলাহাটিতে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৩ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা শেকড়ের সন্ধানে শীর্ষক সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে সপ্তম মিলনমেলা ফুলবাড়ীতে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

ফেলনা প্লাস্টিক থেকেই নান্দনিক রকমের হস্তশিল্প আবিস্কার

অনলাইন ডেক্স
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

সম্রাট আলাউদ্দিন,ধামরাই(ঢাকা)প্রতিনিধিঃ ঢাকার ধামরাই উপজেলার সূয়াপুর ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা বিশ্বনাথ চন্দ্র মনিদাস প্রমান করেছেন পৃথিবীর কোন জিনিসই ফেলনা নয়। তিনি ফেলনা প্লাস্টিক থেকে তৈরি করছেন গৃহকার্যে ব্যবহৃত নানান রকমের হস্তশিল্প।মনিদাস তৈরি করছেন ধান সংরক্ষনের গোলা, ঘরের চাল, বেড়া এবং কবুতরের খোঁপসহ দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানান হস্তশিল্প। আর এসব তৈরিতে কাচাঁমাল হিসেবে ব্যবহার করছেন স্থানীয় বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের ওয়ান টাইম বেল্ট।দেখলে মনে হবে বাঁশ অথবা বেতের তৈরি, আর প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হলেও এগুলো বুনা হচ্ছে বাঁশ ও বেতের মতো করেই। তাই গ্রামীণ জনপদের নারী-পুরুষ সামান্য প্রশিক্ষনের মাধম্যেই তৈরী করতে পারছেন এসব পণ্য।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সূয়াপুর বাজারে বিশ্বনাথ চন্দ্রের ‘লোকনাথ সৌরভ স্টোরের’ দেখাদেখি এমন আরো ৩/৪টি প্লাস্টিকের বেল্ট থেকে বিভিন্ন পন্য তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তারা উপজেলার বিভিন্ন গার্মেন্টসের পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের এসব বেল্ট কেজি দরে কিনে আনেন। পরে স্থানীয় কারিগররা তাদের নিপুন হাতে তা থেকে তৈরি করেন একের পর এক গৃহস্থালির নানান ব্যবহার্য সামগ্রী। এতে করে একদিকে যেমন পরিবেশ মুক্ত হচ্ছে দূষণের হাত থেকে পাশাপাশি অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে অনেক বেকার মানুষের। এই এলাকার এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিতে কাজ করছেন গড়ে ৮ থেকে ১০ জন করে শ্রমিক। আর তাদের তৈরী এসব পণ্য স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে পৌছে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ, গাজিপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের নানা প্রান্তে।এসব পন্য তৈরির বিষয়ে মনি দাস জানান, প্রতিটা কারিগরকে মজুরী দেয়া হয় কেজি হিসেবে। প্রতি কেজি পন্য তৈরির জন্য তাদের মজুরি হিসেবে ২৫ টাকা করে দেয়া হিউ। দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১২ কেজি পন্য বুনতে পারেন একজন কারিগর।এ বিষয়ে কথা হয় শিল্পি রানী নামে একজন নারী কারিগরের সাথে তিনি জানান, প্রতি মাসে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা আয় হয়। স্বামীর ইনকামের পাশাপাশি তার এই বাড়তি আয় দিয়েই চলছে তাদের তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ। আগে নিজ বাড়ির গৃহস্থালী কাজ করেই তার সারাদিন কাটতো। ছিলোনা বাড়তি কোন আয়ের মাধ্যম। এর ফলে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। তবে বর্তমানে এখানে কাজ করে তিনি নিজেই এখন স্বাবলম্বী। স্বামীর পাশাপাশি নিজেও মিটাচ্ছেন সংসারের খরচের একটি অংশ।আশু সরদার নামে আরেক কারিগর বলেন, আমি প্রায় ১৪ বছর যাবৎ এই কাজ করছি। আগে ধানের গোলা এবং বেড়া বুনতাম বাশের কঞ্চি দিয়ে। এখন আর বাঁশ দিয়ে বুনিনা এখন প্লাস্টিকের এই ফিতা দিয়ে এসব পন্য বানাই। আর কয়েক দিন পর থেকেই ধান কাটার মৌসুম শুরু হবে। সে উপলক্ষে এখন ধানের গোলার অনেক চাহিদা। বছরের এই তিন মাস এখানকার কারিগররা দিন-রাত কাজে ব্যাস্ত সময় পার করে। এই সময় দৈনিক ৮০০ থেকে ১হাজার টাকাও রুজি হয়। এছাড়া বছরের অন্য সময়ে আমরা ঘরের সিলিং, বেড়া, কবুতরের খোপসহ বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরি করে থাকি।ষাটোর্ধ্ব নির্মল সরকার তিনিও আপন মনে বুনে চলেছেন প্লাস্টিকের বেড়া, তাকে জিজ্ঞেস করতেই জানালো, একসময় ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। এখন বয়সের কারনে ভ্যান টানার শক্তি নেই। ছেলেরাও বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। তাই এই কাজ করেই স্ত্রীসহ দুজনের আহার যোগার করেন তিনি। নির্মল সরকার জানান, বৃদ্ধ হবার কারনে কেও কাজে রাখতে চাইতোনা। পরে বিশ্বনাথের কাছে আসলে তিনি আমাকে এখানে কাজে রাখেন এবং কয়েকদিন হাতে ধরে দেখিয়ে দেবার পর এখন আমি নিজেই বেড়া বুনতে পারি। এটা দিয়েই আমার আয় হয়, সংসারের খরচ চলে।পার্শ্ববর্তী মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলা থেকে ধানের গোলা কিনতে আসা আসাদুজ্জামান নামের এক কৃষকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি মাঝারি সাইজের ধান সংরক্ষণের গোলা কিনেছি। যার ওজন হয়েছে ৩০ কেজি। ১২০ টাকা দরে দাম হয়েছে তিন হাজার ছয়শো টাকা। এই গোলাটি অনেক টেকশই সহজে নষ্ট হবেনা। আমরা আগে বাঁশের তৈরী গোলায় ধান রাখতাম তবে সেগুলো বেশীদিন ব্যবহার করা যায়না ইঁদুর কেটে ফেলে। ফলে অনেক ধান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এখানকার প্লাস্টিকের তৈরী গোলায় ধান রাখলে তা সহজে নষ্ট হয়না এবং ইঁদুরেও কাটতে পারবেনা ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। এবং দেখতেও সুন্দর লাগে।বিশ্বনাথের এই কারখানার পাশেই এই প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরে বসবাস মাধবী দাসের। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, টিন কিংবা ইটের ঘর তৈরিতে অনেক খরচ। আমাদের সেই সামর্থ্য নেই তাই প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে ঘর বানিয়েছি। এতে খরচ তুলনামূলক অনেক কম এবং রোদ বৃষ্টিতে নষ্ট হবারও কোন আশংকা নেই। এই ঘরে থাকতে কোন অসুবিধাই হয়না। সাধারণ টিনের ঘরের মতোই ভেতরের পরিবেশ তেমন কোন পার্থক্য নেই এর মধ্যে।এ বিষয়ে শিল্পটির উদ্যোক্তা বিশ্বনাথ চন্দ্র মনিদাস, প্রায় ৪ বছর আগে এই ব্যবসাটা শুরু করেছি। আগে আমি গরু লালন-পালন করতাম কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় সেই ব্যাবসায় লস খাই। পরে হঠাৎ গার্মেন্টসের পরিত্যক্ত এই বেল্টগুলো দেখে আমার মাথায় আসে এইগুলো দিয়েও বাঁশ বা বেতের মতো বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী তৈরী করা সম্ভব। সেই থেকেই এই কাজের শুরু। বর্তমানে সৃষ্টিকর্তার আশির্বাদে এই ব্যবসা করে আমি এখন স্বাবলম্বী। আমার এখানে সিজনভেদে সারা বছর ৪ থেকে ৮জন শ্রমিক কাজ করে। আমরা বিভিন্ন গার্মেন্টস কারখানা থেকে এই পরিত্যক্ত বেল্ট গুলো কেজি দরে কিনে আনি। মানভেদে প্রতিকেজি প্লাস্টিকের বেল্টের দাম ৩০টাকা থেকে ৬৫টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর সেই বেল্ট দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পন্য আমরা মান অনুযায়ী ১০০টাকা থেকে ১৫০টাকা পর্যন্ত প্রতিকেজি হিসেবে বিক্রি করে থাকি।তিনি আরো বলেন আমার দেখাদেখি এই এলাকায় আরো দুইজন এই ব্যবসা শুরু করেছেন। আমাদের এখানে অনেক নারী শ্রমিক কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন যারা আগে সাংসারিক কাজের মধ্যেই সারাদিন পার করতেন এর ফলে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। তবে বর্তমানে এ চিত্র পাল্টেছে। নারী-পুরুষ উভয়েই এসব পন্য তৈরির কাজ করে সচ্ছলতার দেখা পেয়েছেন। পাশাপাশি পবিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব পরিত্যক্ত প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে মানুষের কাছে পৌছে দেয়ার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা হচ্ছে।তবে আমাদের এই শিল্পের প্রসারে যদি সরকারের রাষ্ট্রায়াত্ব ব্যাংক কিংবা কোন বেসরকারী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে তাহলে এই হস্তশিল্পটি আরও ব্যপকভাবে সম্প্রসারিত করা সম্ভব হতো বলে আমি মনে করি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: বাংলাদেশ হোস্টিং